Friday, 2 December 2016

।। রাত নারী ও ছায়াপুরুষ ।।


তারপর ধৃসর হলে বেগুনী চাঁদ-
চারদিকে ডানা মেলে ধরে বিবর্ণ রঙীন প্রজাপতি,
মায়াবী আলোক কণাগুলো বিবর্তিত হয়ে ওঠে নিটোল ছায়াপুরুষ।
এবং রঙধনুর ফুল হয়ে ফুটতে থাকে অন্তঃপুরে...

রাতভর চলতে থাকে ইহলৌকিক হিসাব নিকাশ...
রাতের দেহকে টুকরো টুকরো করে লোভ আর পাপের ছুরি;
যদিও প্রকৃত প্রেমকে কখনো ষড়রিপু স্পর্শ করেনা।
তবুও মৃত্যুর কন্ঠ ছুঁয়ে মানুষ জন্ম নিতে চায় বারবার,
রমনী পুরুষের এই পরিচয়টা মহাজাগতিক-
জাগতিক কোন প্রলোভন নয়- সৃষ্টির আদিম রহস্য!

আসলে জীবনের মতো সুন্দর কিছু নেই...

জীবনকে কেন্দ্র করেই ঘুরছে উৎপাদনের চাকা,
যেমন জোৎস্নার গন্ধ মেখে প্রতি পক্ষে চাঁদ ঋতুবতী হয়...

জীবনকে আবিস্কার করতে হলে রাতের প্রবর হতে হয়,
নারীকে নিখাঁদ ভালোবাসতে হয়-
পুরুষেরও আপন হতে হয় রমনীর...

যদি নদী কিংবা রাতকে উচ্চারণ করা হয় নারীর উপমায়-
আকাশী রঙের যৌবনগুলো
নিখুত প্রেমে কিনে নেবে আমাদের স্বচ্ছ ছায়াপুরুষ...
__________________________________

© মোশ্ রাফি মুকুল

।। বাইক কথা ।।



কিছু বাইক এর শব্দ কানে ঢুকলেই সব কটা ইন্দ্রিয় খাড়া হয়ে ওঠে।

আজ একটা RX135 এর শব্দ কানে ঢুকতেই রাস্তার দিকে ফিরে তাকালাম। এই bike টার শব্দে একটা মাদকতা আছে। না তাকিয়ে থাকা যায় না।

কিন্তু কাছে আসতেই দেখলাম বেশ পুরানো একটা RX135 । bike টার পেট্রোল ট্যাঙ্কে অপটু হাতে লেখা Royal Enfield ।

বেশ হতাশ হলাম। একসাথে অনেক কটা চিন্তা মাথায় পাক খেয়ে উঠলো।

RX135 ভারতীয় bike ইতিহাসে নিজেই একটা লিজেন্ড । তার ট্যাঙ্কে Royal Enfield লিখে যেন RX135 এর নিজের গৌরবময় ইতিহাস কে উপহাস করা হয়েছে।মালিকের হয়ত RX135 এর ইতিহাস সম্পর্কে কোনো সম্যক জ্ঞান নাই । ময়ূর যদি তার পেখম ফেলে বাজপাখির ডানা বেঁধে উড়তে চেষ্টা করে , তাহলে যেমন হয় এই ব্যাপার তাও অনেকটা সেই রকম। আবার মালিকের Rx135 সম্পর্কে জ্ঞান নাই তাই বা বলি কি করে। জ্ঞান না থাকলে কেউ এতো যত্নে Rx135 টা এখনো রক্ষনাবেক্ষন করতো না।

মালিকের হয়তো Royal Enfield এর শখ ছিল যা পূরণ হয় নি। তাই নিজের Rx135 এ বসে RoyalEnfield এর শখ মেটাতে চেষ্টা করে।

আমাদের যা আছে তাই নিয়ে সন্তুষ্ট থাকতে আমরা কখনোই চাই না। অনেকে বলেন যে সন্তুষ্টি মানেই মৃত্যু। নতুন কিছু পেতে গেলে , নতুন কিছু করতে গেলে নাকি সর্বদা অসন্তুষ্ট থাকতে হয়।
কিন্তু ব্যক্তি জীবনে অসন্তুষ্টি শুধু অশান্তিই ডেকে আনে। কোথাও একটা পড়েছিলাম, আমরা কখনোই সুখী হতে চাই না, তাই অসুখ খুঁজে বেড়াই। একটা চাহিদা মিটতে না মিটতে অন্য চাহিদার পিছনে দৌড়াই। আসলে শুধু অসুখী হবার কারণ খুঁজে বেড়াই।

মাঝে মাঝেই সীমিত পরিসরে খুশি ও সুখী থাকতে পারা টা জীবনের চালিকা শক্তি হয়ে দাঁড়ায়। যারা তা পারে না তারা নাগরদোলার মতো ঘুরতেই থাকে কিন্তু এক পাও এগুতে পারে না।

নিজের RX135 কে Royal Enfield নাম দেবার প্রবণতা আমাদের সবার মধ্যেই কম বেশি আছে। নিজের সন্তানের নাম সুভাষ, বিবেকানন্দ বা, সচিন রাখার মধ্যে দিয়েও আমাদের একই মানসিকতা প্রতিফলিত হয়। মদন মিত্রের বাবা ও হয়তো ভেবেছিলেন তার ছেলে মদন মোহন মালব্যের মতো প্রাতঃস্মরণীয় হবে। ধনঞ্জয় অর্জুন স্বর্গে অপ্সরাকে একান্তে পেয়েও তাকে মাতৃ সম্মধন করেছিলেন, আর বাংলাতে স্কুল ছাত্রী হেতাল পারেখকে আরেক ধনঞ্জয়ের হাতে নিগৃহীতা হতে হয়েছিল।

তবুও যে ছেলে মেঘের ডাকে ভয় পায় তার নাম কালই হয়ত মেঘনাদ রাখা হবে।।।
______________
© সৈকত সেন রানা

Thursday, 1 December 2016

~ "নিজেরটা দেখুন" ~


আজকাল ফেসবুকে বাঙলাভাষী নানান applications খুব জনপ্রিয় হয়েছে। যেমন - আপনি এখনো single কেন, কারা আপনার profile এ ঝাড়ি মারে, আপনি আসলে কোন জন্তু, কারা আপনার জন্য ফিদা, আপনার গায়ের গন্ধ কোন ফুলের মতো, পটি করতে করতে আপনি কোন গানটি গান ইত্যাদি, ইত্যাদি। তা এইসব দেখতে দেখতে আমারও ভারি কৌতুহল হচ্ছিল, দেখিই না ব্যাপারখান কী।

আজ রাত্রি তিন প্রহরে আমার timeline এ এক বন্ধুর update এল - "আপনার চারটি বিশেষত্ব।" দেখলাম, খুব সুন্দর সুন্দর কথা লেখা আছে। নিজেকে আর আটকাতে পারলাম না। কোনদিন তো নিজের সম্বন্ধে ভাল কিছু কাউকে বলতে শুনিনি। বাবা-মা এখনো নিজেদের এই ঐতিহাসিক ভুল নিয়ে আফসোস করে। বন্ধুরা বলে, বিষ। বউ তো সারাক্ষণ বলে চলেছে এই বুড়ো ভামের পাল্লায় পড়ে, তার সুকুমার, সবুজ, সুরভিত জীবন ও যৌবন ভাজা ভাজা হয়ে গেছে। এমনকি আমার প্রেমিকারাও কোনদিন মিষ্টি কিছু বলল না, খাওয়ানো তো দূরের কথা। 

তার ওপর, এই তো গতকাল এক প্রেমিকার সাথে পার্কে বসে বাদামভাজা খাচ্ছি। ঠিক খাচ্ছি না, আমি খোলা ছাড়িয়ে দিচ্ছি আর ও খাচ্ছে। এমন সময় পেছন থেকে কয়েকটি বদ ছোকরা আওয়াজ দিল - দাদু senior citizens কোটায় কী জিনিস তুলেছে, দ্যাখ মাইরি ! আমি এসব আওয়াজ টাওয়াজ গায়ে মাখি না। বাঙালির ফ্রয়েডীয় চোঁয়া ঢেকুর ভেবে মাফ করে দেই। কিন্তু আমার প্রেমিকা ভারী খচে গিয়ে বলল - বুড়োর সাথে পার্কে বসাই তার ভুল হয়েছে। আমি খুব কায়দা মেরে, একচোখ টিপে বললুম - পরীক্ষা করেই দেখ, বুড়ো না কচি। তা শুনে ও বলল - ছাগল দিয়ে যে লাঙল টানানো যায় না, সেটা জানার জন্য পরীক্ষা করতে হয় না। যাইহোক, থাক এসব দুঃখের কথা। যা বলছিলুম, সেটাই বলি। নিজেকে আর সামলাতে না পেরে দিলুম আঙুল ছুঁইয়ে। আর তারপরেই চমক -

দেখলাম একটা লেখা এল - "নিজেরটা দেখুন"। সদ্যসদ্য প্রেমিকার কাছে লাঙল করা নিয়ে কথা শুনতে হয়েছে, তারপরে ফেসবুকেও এই ! হে জগৎ, তোমার কি মন নাই ! যাইহোক, বলেছে যখন, তখন করতে তো হবেই। কিন্তু ঘুটঘটে অন্ধকারের মধ্যে দেখব কী করে ! টর্চ জ্বেলে দেখাই যায়, কিন্তু পাশে বউ। ও যদি দেখে ফেলে, তাহলে মহা কেস খেতে হবে। এইসব সাতপাঁচ ভাবতে ভাবতে শেষ পর্যন্ত কৌতুহলেরই জয় হল। সেই আপেলের সময় থেকে কৌতুহলই জিতে এসেছে। অগত্যা চাদরটায় মাথা পর্যন্ত ঢেকে, টর্চ জ্বাললুম।


দেখলাম, উনি গুটিসুটি মেরে ঘুমাচ্ছেন। ঠান্ডাও পড়েছে। কেমন যেন একটু শুকনো শুকনো আর দুঃখী দুঃখীও লাগছে। যদিও শুধু দেখতেই বলেছিল, তবুও একটু কথা বলার লোভ সামলাতে পারলাম না। দীর্ঘদিন এমন একান্ত সাক্ষাৎ হয়নি। আহা, অবাক হবেন না। আমি কবি মানুষ। আর কবিরা পাহাড়, সমুদ্র, মরুভূমি, গাছ, পাখী, নদী, নালা, মশা, মাছি, ডেঙ্গি, আমাশা সক্কলের সাথে কথা বলার ক্ষমতা রাখে। কিন্তু কোন ভাষায় কথা বলব? ভেবে দেখলাম ইংরেজিতেই বলি। শত হলেও উনিও তো বাঙালী। আস্তে আস্তে ঠেলা মেরে বললাম
- good morning 

No answer
এবার আরেকটু জোরে ঠেলা মেরে - good morning.
একটু নড়েচড়ে উঠে উনি ভারী বিরক্তি সহকারে বললেন, what is good about this morning?
খাইসে! এমন high philosophical উত্তরের জন্য প্রস্তুত ছিলাম না। ঘাবড়ে গিয়ে পাতি বাংলায় মিনমিন করে বললাম - না মানে, সবাই তো এমনটাই বলে। তাই -

- এই হল বাঙালির দোষ। মাথা না ঘামিয়ে শুধু টুকলিবাজি আর চুকলিবাজি।
- হেহেহে। তা যা বলেছেন।
- তা কী ব্যাপার? এতো ডাকিডাকি কিসের? বউ তো ঘুমাচ্ছে দেখছি। একটা কথা প্রথমেই বলে দেই। কলম দিয়ে কান খোঁচানো যায় ঠিকই, কিন্তু ওর আসল ব্যবহার কাগজের ওপর। বোঝা গেল কথাটা?
- আজ্ঞে, ঠিকমতো বুঝলাম না।
- স্বাভাবিক। ঘিলু শুকিয়ে ঘুঁটে হয়ে গেলে যা হয়। বলছিলাম, হাত দিয়ে ঠেলা মেরেছিস, ঠিক আছে। হাত দিয়ে আর বেশী কিছু করবি না।
- না না। কী যে বলেন না। শুধু দুটো কথা কইব।
- কী কথা?
- এই কেমন আছেন, এইসব আরকি।
- হঠাৎ
- না মানে, কেমন যেন শুকনো দেখাচ্ছে
- তোর ঘরে কি এখন বৃষ্টি হচ্ছে
- না।
- তুই কি চান করছিস?
- না না।

- তাহা হইলে হে মোর পত্নীর ভ্রাতা, আমি কি aqua guard যে টিপলেই জল বেরুবে?
- এটাও ঠিক বুঝলাম না। যদি একটু বুঝিয়ে দেন
- থাক। বেশী বুঝে কাজ নেই। এই কথোপকথনও তো ফেসবুকে দিবি। বুঝিয়ে বললে, তোর profile del হয়ে যাবে।
- বাব্বা ! আপনি ফেসবুক, কম্পিউটার এসবও জানেন?
- ভুলে যাস না। তোদের জন্ম আমি দেই। বাপ, বাপ হোতা হ্যায় আউর বেটা, বেটা হোতা হ্যায়।
- একদম যথার্থ বলেছেন। আজন্ম একসাথে আছি, কিন্তু আপনার যে এতো জ্ঞান, জানতেই পারিনি।
- এর জন্য চর্চা করতে হয়। কাগজ কলম পাশাপাশি রেখে দিলেই কী আর রবীন্দ্রনাথ হওয়া যায় রে !
- আপনার মুখেও রবীন্দ্রনাথ !
- বাঙালি তো। সবেতেই রবীন্দ্রনাথ না টানলে যে তোদের জাত যায়।
- কিন্তু sir, একটু নজরুলও ছুঁইয়ে রাখুন। নইলে চাপ আছে।
- আরে উনিই তো আমাদের মনের কথাটা কয়ে গেছেন। মানে ঈষৎ পরবর্তিত করে - শোন বীর, করো চির উন্নত মম শির।
- হ্যাঁ, এবারে আর কেউ কিছু বলতে পারবে না। তবে, আরো একটা ব্যাপার যদি করেন, তাহলে এক্কেবারে নিশ্চিন্তি।
- থাম তুই। আমি bi-color হতে পারব না, এ আগে থেকেই বলে দিলাম।
- আচ্ছা, আচ্ছা। আপনার যেমন ইচ্ছা। তা আপনাকে যেন একটু দুঃখী দুঃখীও লাগছিল?

- হুঁ।
- কেন?
- তোর মতো ছাগলের সাথে থাকলে এমন হবেই।
- ও হো। ওর ওই ছাগল দিয়ে লাঙলের কথাটা খুব মনে লেগেছে বুঝি?
- মনে নয়, মানে।

- very sorry. কী করলে আপনাকে সুখী করতে পারব, যদি বলেন।
- এটাও বলে দিতে হবে! এক কাজ কর, quantum mechanics আর বেদান্তের একটা তুলনামূলক আলোচনা কর। তাহলেই খুশি, সুখী সব হব। ভাগ এখান থেকে। আহাম্মক কোথাকার।

এমন ধাতানি খেয়ে আর কথা বাড়ানোর সাহস হল না। টর্চ বন্ধ করে ফেসবুকে মন দেয়াই ভাল। নিজেরটা দেখলাম, কথাও বললাম - এতক্ষণে নিশ্চয় ফেসবুক আমার গুণগুলো গুনগুনাচ্ছে। যাই, দেখে আসি বরং -

______________
@শোভন বাগ


Wednesday, 30 November 2016

।। মেঘের কোলে ।।



তোমার প্রেমেই রচেছি আমি গান,
তোমাতই সঁপেছি নীরব অশ্রু বান।
ভোরের আলোয় শোভিত অংশুমান,
সুরের পরশে অলির ঘটে আগমন।
কুমুম কানন ভরে ওঠে পুষ্প সাজে,
তোমার সুর ভাসে যে হৃদয় মাঝে।
প্রেমের তরির নিস্তরঙ্গ আনাগোনা,
হলো কত প্রজাপতিদের জানশোনা।
আকাশ নীলে শ্বেত বলাকার সারি,
নির্দয় নির্মমতা আমি সইতে নারি।
অরুন উদয়ে উদ্ভাসিত স্নিগ্ধ শিখা,
তোমার প্রেমের সিক্ত মিলন রেখা।
বিহঙ্গ ডানায় লিপ্ত উড়ন্ত বাতাস,
ভালবাসায় থাকে না স্বার্থ আভাস।
সূর্যাস্ত পশ্চিম গগনে পাহাড় কোলে,
প্রেমের আধারে তখন খুশি দোলে।
মেঘের কোলে লুকিয়ে ধনুকি চাঁদ,
তারার আলোকে নাই কোন খাদ।
রাতের বিছানা স্বপ্নমুর্ছনার আকর,
গভীরতা পায় স্বাধীন প্রেম শিকর।
তন্দ্রার মাঝে তোমাকেই শুধু পায়,
তুমি ছাড়া আমার ভূমিকা নিকায়।
____________________________
© নির্মল সাহা

।। বাংলা লতিফা~~ কাছে ছিল ।।


দূরে দূরান্তে ছিল মসজিদ
কাছে ছিল আজানের ডাক ৷
মন্দির ছিল না কাছে কোথাও
কাছে ছিল – আরতি শঙ্খ ঢাক ৷

মনে পড়ায় আমাকে কেউ জীবনের ডাক এপারে রোজ
আমার একান্ত মন বলে– মৃত্যু দিনের ডাক ওপারে'ই থাক ৷
____________________________________
© অনুপ দত্ত
অবসর ঘর- কোলকাতা/২৯-১১-২০১৬ / রাত-১২টা

।। ভালোবাসতে চাই ।।



     আবার ,হ্যাঁ ঠিক আবার , ছন্দপতন
হিমালয়ের উপর বেঁয়ে চলা হিমশৈল ..গঙ্গোত্রি।।
ভালোবাসতে চাই ..আবার
বাস কিংবা স্টেশনে ..জন সমুদ্রে
মৃত্যুর মিছিলে ..মোমবাতিও ঠিক জ্বলে
মরে যায় ভালোবাসা ..আর কাছে আসার
দিন গুলি ..মিষ্টি ছোঁয়ায় উষ্ণতায়
             একশো চারের জ্বর ।
গোলাপের কাঁটায় যে ক্ষতটা রেখে গেছে
যে যন্ত্রনায় অর্ধমৃত মন ..সবটা আজ  প্রাক্তন ।।

তবে আজও
ভালোবাসি ..
হ্যাঁ আমি ভালো যে বাসতে চাই
অতীতকে নয় ..নাহ ভবিষ্যৎকে
শুধু এই বর্তমানকে
হ্যাঁ শুধু  এই বর্তমানের "তোমাকে"
             ..রিয়্যালিটিটা যে এখানেই ।।
 __________________________
© জ্যোতির্ময় রায়
৩০/১১/১৬

।। ভুলে যেতে চাই ।।


 ভুলে যেতে চাই তোমাকে
 রাখতে চাই না আর মনে ,
 সারাদিন সারাক্ষন তোমার
 মুখটা আমাকে তাড়া করে বেড়ায়
 কিছু করতে পারিনা, সব ভুল
 হয়ে যায় । তোমার কাঁজল কালো
 চোখ দুটো মিটিমিটি হাসে আর
 বলে কি হলো আবার ভুল হয়ে
 গেলতো ? কোনো দিন দেখিনি
 তোমাকে, শুধু কল্পনায় এঁকেছি ।
 একটা বৃষ্টি ঝরা রাতে কথাকে
 সঙ্গে করে মেঘের ভেলায়
 এসেছিলে আমার কাছে , জানি না
 কোথা থেকে এসেছিলে সুনামিকে
 সঙ্গে করে আমার কাছে কল্পনার
 পথ ধরে i  সুনামি হয়ে আছড়ে
 পরেছিলে আমার কামনায় ।
 ওই একটি রাতে তুমি আমাকে আমার
 যৌবনের শিখরে তুলে নিয়েছিলে I  
 রাত জাগা পাখির মতো তুমি আর    
 আমি দুজনেই দেখেছি ক্লান্ত ভোর
 হতে i আর খুঁজে পাইনি তোমাকে।
 কখনো দেখেছি শ্রাবনের কালো মেঘে
 তোমার কেশ রাশি,  তোমার চোখের
 বিদ্যুতের ঝিলিক, আবার কখনো
 পেয়েছি শান্ত স্নিগ্ধ বসন্তের দখিনা
 বাতাসে তোমার শরীরের হাসনাহানার
 গন্ধ i   আজ হটাৎ সব কিছু কেমন
 হারিয়ে গেলো,  আকাশের গায়ে আঁকা নেই
 তোমার চোখ দুটি,  বাতাসে নেই কোনো
 হাসনাহানার গন্ধ i  তুমি হারিয়ে গেছো
 আমার কাছ থেকে i  আর খুঁজবোনা
 তোমাকে, শুধুশুধু কষ্ট পাওয়া মনে i
 তার থেকে এই বেশ .......
 ভুলে যেতে চাই তোমাকে ... তবু
 থাক না একটু খানি স্মৃতির আবেশ i

 ********
©শ্যামল নিয়োগী