Sunday, 4 December 2016

।। আমার চাওয়া ।।

তুমি কথা বলতে  ভয় পাও,
                  ভাবো কি বলতে কি বলবে ,  
                      বাঁধা ধরা শব্দের বাইরে .....                  
        তুমি  কিছু  জান না.... জানাতে  চাও না।    

তুমি  সপ্ত স্বরকে দেখো   ...                              
             কেবল মাত্র  সাতটা স্বর   !                          
 নিজেদের মধ্যে মিলেমিশে   ....          
             কেমনে ....  অসংখ্য সুরের জন্ম  দেয়  ।                    
তা যদি তুমি বুঝতে....                                          
তাহলে  কত সহজেই  ..... কত ভাবেই    না                          
             তুমি নিজেকে  প্রকাশিতে।  

তুমি  কারোর বুকে ঝাঁপাতে  ভয়  পাও  !  
  ভাবো  যদি সে মুখ ফেরায়   .........          

             তুমি  ঝরনাকে দেখো   .....                              
  কেমন সংকোচহীন অবলীলায়  ,          
পাথর হতে পাথরে  ঝাঁপায়  ,                  
  তারপরও  নির্দ্বিধায়  বয়ে যায়   ......              
    আপন খুশিতে আপন মোহনায় ।                  
যদি তুমি  ঝরনা হতে  ....              
                তাহলে তুমি  কত সহজেই  ,            
       আপনাকে মিলিয়ে দিতে     ......        
  তার ঊষর বুকে ,
বয়ে যেতে বাধাহীন ধারায় .....
মনের বিজন অববাহিকায় ,
সঙ্গমে মিলিত হতে ...... সুরসাগরের মন মোহনায় ।

তুমি মনকে বশে রাখতে চাও !
মাঝে মাঝেই মন তোমার  বিবশ হয়ে .....
তোমায় ছেড়ে যেতে চায়  ।

তুমি বাতাসকে দেখো.........
কেমন সহজেই ..... আমার দেশের বাতাস
তোমার দেশে বয়.......
সবার অজান্তেই ,
তার প্রিয়ার কানে ....কানাকানি করে.........
মনের খবর নিয়ে.....নিমেষে মিলিয়ে যায় !
ইস্, তুমি বাতাস যদি হতে.......
তাহলে তুমি .....প্রাণবায়ু হয়ে,
তার মনের গহীন কোনে ....
এক পলকেই পৌঁছে যেতে .....বিনা আমন্ত্রনে ।

আমি চাই......তুমি হয়ে ওঠো....
আমার মনের স্বরলিপি......মনভোলানো গান........
আমি চাই......তুমি হয়ে ওঠো....
আমার মনের শ্রাবনধারা.......কূলছাপানো বান.....
আমি চাই......তুমি হয়ে ওঠো....
আমার মনের আবহমান .......জীবন সংগ্রাম ।

© সুদীপ্ত দে ।। ০২. ১২.২০১৬ ।।

।। তফাৎ ।।

তোমার আকাশ জুড়ে রঙ্গিন আতসবাজি ,
অমবস্যা তোমার ঘরে জ্বলে বিজলিবাতি ।
আমার আকাশটায় তারার মেলা,
আমার ঘরের পশ্চিম জানালা যায় না খোলা ।
তুমি চাইলেই পৃথিবীটা হাতের মুঠোয়,
তুমি চাইলেই তোমার আকাশে ফানুস উড়োয় ।
আমি চাইলে পাইনা কখনো ওই চাঁদ
লিস্টে হয়তো নাম উঠে ,তবুও হয়ে যাই বাদ ।।
তুমি আকাশ ছোঁয় ওই অট্টালিকার পরে
তোমার জন্য জনগন লাড়াই করে ।।
তুমি ছুড়ে ফেল নর্মদায় ,নষ্ট প্রেম ,
খেলতে পারো দারুন মাইন্ড গেম ।
আমার শুধু দু-বেলা দুমুঠো ভাত চাই
বদলে শুধু ওই ঝলসানো রুটি পাই ।
স্বপ্নদেখা বড়ো পাপ যে মোদের
আমরা যে সমাজের আবর্জনা ,চোখে তোমাদের।
তোমার থেকেও "আরো চাই আরো চাই "গান,
আমার আধপেটে কান্নার নেই কোনো দাম ।
তবুও আমরা বেশ সুখে আছি ।
অন্ধকারে তবুও একপা দুপা করে হাঁটি ।।
_____________
© জ্যোতির্ময় রায়

।। রাইস মিল, সরকারি ফতোয়া আর বাস্তব পরিস্হিতি ।।

সংবাদে প্রকাশ রাইসমিল সংগঠনগুলির সরকারি ধান ভাঙানোতে না, ও সেই সংক্রান্ত কিছু কথা।
------------------------------------------

সবার আগে রাইসমিল গুলোর ইতিহাসটা একটু জানা প্রয়োজন।

৭০-৮০ এর দশকে পশ্চিমবঙ্গে প্রায় সর্বত্রই ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা হাস্কিং মিল বা পাড়ন রাইস মিলগুলো মূলত তারাই করেছিলেন যারা মফঃস্বলের ‘বড়লোক’, বাড়িতে একটা গাদা বন্দুক আছে, যাদের বাবা কাকা মিলিয়ে বেশ কিছু পরিমান জমিজমা ছিল তারাই। আর হাতে কিছু নগদ টাকারও জোগান ছিল তাদের। ব্যাঙ্ক লোন তখনও এই পৃথিবীতে প্রবেশ করেনি। তখন আজকের এই উচ্চফলনশীল লালস্বর্ন বা IR- 64, বা নিদেন পক্ষে গুটকা GS ক্যাটাগোরির ধান ছিলনা। তাই নামে রাইসমিল হলেও আসলে একটু উন্নত ধানকলই ছিল।

এর পরে কৃষতে আমুল পরিবর্তন ঘটে। সেচে, বীজে, ট্রাক্টরে, কৃষি ঋণ সংস্কারের ফলে গ্রাম্য কৃষিতে বিপ্লব আসে, ৯০ এর দশকের শুরু থেকেই। উপরন্তু সরকারি মিনিকেট (ধানবীজ) পেয়ে উচ্চ ফলনশীল ফসল ফলাতে শুরু করে চাষীরা। তখন শহরাঞ্চল ব্যতিত চাল কেউই কিনে খেত না তেমন। গ্রামের সম্পন্ন মানুষেরা বাড়ীতেই সিদ্ধ-ভাপাই করে চাল বানাতেন। মজুরেরা গৃহস্হের থেকে মজুরী বাবদ চাল পেতেন। তাতেই চলে যেত। এইসময় নিজের প্রয়োজন মিটিয়েও অতিরিক্ত ধান বেচতে গিয়ে চাষীরা দেখল ধান কেনার খরিদ্দার নেই। যদিও বা কেও নিতে রাজি হলেন পয়সা কবে দেবেন তার কোন গ্যারান্টি ছিলনা।

ঠিক এইমত পরিস্থিতিতে বাজারে অবতীর্ন হলে মাড়োয়ারী সম্প্রদায়ের ব্যবসায়ীরা। সাথে নিয়ে এলেন সামান্য পুঁজি, তৎকালীন উন্নত প্রযুক্তি আর প্রখর ব্যবসা বোধ। ব্যাস প্রতিযোগিতাতে ঠিকে থাকতে না পেয়ে অচিরেই সেই পুরাতন বাঙালী রাইসমিলগুলির অবলুপ্তি ঘটল। তখনও সরকার ধানকল সম্বন্ধে চরম উদাসিনতাই দেখিয়েছিল যেন চালচুলোটা তো ঘরোয়া বিষয়, ওখানে আর সরকার কি করবে?

৯০ এর দশকের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যেই, মানে ৫-৭ বছরের মধ্যেই “রাইসমিল” বাজারের ৯৫% এর বেশি মালিকানা অবাঙালীদের হাতে চলে গেল। চাষীদের কাছে তখন অতিরিক্ত ফলনের ধান মজুত। সুতরাং বাজারে ধানের ফড়ে বা দালাল গোষ্ঠীর জন্ম হল। মানে এনারা চাষীর থেকে , বস্তা- লেবার – গাড়ি করে ধানটা মেপে নিয়ে মিল পর্যন্ত পৌছে দেবে, তার জন্য মিলের আর চাষী উভয়ের থেকেই একটা পার্সেন্টেজ পাবে। আর চাষীকে টাকা দ্রুত পেতে সাহায্য করবে। দাম দরের তেমন সুযোগ ছিলনা, মিলারের খুশিতে দাম নির্ধারিত হত।

আমি নিজে সাক্ষী, কালনার এক মাড়োয়ারী রাইসমিলে আমার দাদু ধান বেচে এসে ১১ মাস পর টাকা ফিরত পেয়ে ধন্য হয়েছিলেন। এটাই ছিল খুব স্বাভাবিক ঘটনা। ফলে সেই আমলের রাইসমিলার গুলো রাতারাতি ফুলে কোলাব্যাঙ হয়ে যায়। অগাধ পুঁজির রমরমাতে একটা থেকে পাঁচটা রাইসমিল তৈরি হতে সময় লাগলনা। সাথে অন্যান্য ব্যাবসাতেও সেই বিনা সুদের চাষীদের টাকা খাটতে লাগল। সরকার সেই সময় একটাই কাজ করেছিল। প্রতিটি রাইসমিলের গেটে লাল ঝান্ডা লাগিয়ে একটা করে সিটু ইউনিউন বানিয়েছিল, যাতে প্রতিটি মিছিলে প্রতি রাইসমিল থেকে কমপক্ষে ২০০ লোকের যোগান নিশ্চিত করতে।

এর পর নতুন শতাব্দীর দোরগোড়ায়। যখন খোলা বাজারে নানান অর্থলগ্নী সংস্থাগুলো নতুন মেসিনারির উপরে লগ্নি করার জন্য গায়ের চামড়া খুবলে নিচ্ছে। রাইসমিলগুলিতে আবার গন আধুনিকিকরণ ঘটল। অটোমেটিক সিস্টেম চালু হল। ১০ বিঘা মেঝেতে ধান শুকানোর রেওয়াজ উঠে গিয়ে ছয় বাই ছয় ফুট জমিতে ৭০ ফুট উঁচুতে মাথা তুলে দাড়াল  ড্রায়ার। একলপ্তে প্রোডাকশন ডবল থেকে পাঁচ গুন পর্যন্ত বেড়ে গেল।

এতো অতিরিক্ত চালের হবেটা কি? সুতরাং বহির্বিশ্বে নন-বাসমতি চাল রপ্তানির জন্য একটা দিগন্ত খুলে গেল। কেন্দ্রীয় সরকার বিদেশী মুদ্রা আয়ের গন্ধ পেয়ে EC Act amendment করে, নতুন রূপে Rice miller & Wholesaler, Levy Act  প্রনয়ন করল। এর আগে রাজ্যসরকারের Food & Supplier দপ্তর ছিল ঠিকই। কিন্তু তারা মূলত কেন্দ্রীয় সংস্থা Food Corporation of India (FCI) এর শাখা হিসবেই কাজ করত। আর এই FCI সম্বৎসর কাল ধরে চালের প্রোকিওরমেন্টটা করত। সেখান থেকে তারাই তাদের গোডাউনে মজুত চাল থেকে রাজ্যের সংস্থা দ্বারা বিলিবন্টন করত। এই সময় রাজ্য খড়গপুর IIT এর বিশেষজ্ঞ দ্বারা ধান চালের Ratio পরীক্ষা করায় বাংলার ধান নিয়ে। পাশাপাশি কেন্দ্রও পাঞ্জাবের ধান দিয়ে রুরকি থেকে একই পরীক্ষা করায় । তাতে দুস্থানে দু রকম ফলাফল আসে। সেটাই স্বাভাবিক। বাংলা আর পাঞ্জাবের পরিবেশ আলাদা, চাষের পদ্ধতি আলাদা। তাই পাঞ্জাবের ধান থেকে ৬৮% চাল নিষ্কাশন সম্ভব হলেও বাংলার ধানে টেনেটুনে ৬৪% এর বেশি দাঁড়ায়নি। অতএব দুই স্থানে দুই রকম চালের হিসাব চালু হয়ে গেল। মিলাররা তখনও লেভি দিলে সেই টাকা পেতে নিদেন পক্ষে মাস চারেক লাগতই। FCI টাকাটা তাড়াতাড়িই পেমেন্ট করত।

এই সময়েই সরকার খাদ্য সুরক্ষা প্রকল্পের অন্তর্গত নানান জনমুখী প্রকল্পের জন্য প্রচুর পরিমানে চাল মজুত করার সিদ্ধান নিল। এবং আইন বানিয়ে 50% of total yearly production লেভি হিসাবে দেওয়াটা বাধ্যতামুলক হল। সেই লেভি না দিলে বাকি অর্ধেক চাল বাজারে বিক্রির অনুমতি মিলবেনা। ওই লেভির ৫০% রাজ্যসরকারের খাতায় আর ৫০% সেই FCI কে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হল। আইনটা খাতায় কলমেই রয়ে গেল। কারন রাইসমিল ব্যাবসাটা বর্ধমান কেন্দ্রিক, আর তৎকালীন শাসকদলের একটা অলিন্দ সেই বর্ধমানেই। তাই পার্টির নেতাদের নাকের ডগাতে বসে দিব্যি থাবামুঠো লেভি দিয়ে পার পেয়ে গেল। সরকারি প্রকল্পের জাল মালগাড়ি করে ভিনরাজ্য থেকে FCI করতে লাগল। প্রসঙ্গত যেখানে একটা রাইসমিলের ৯৯% লেনদেনই কাঁচা টাকাতে হত, সুতরাং আইন শিকেয় না উঠলে এটা সম্ভব ছিলনা। সরকার যথারীতি ধৃতরাষ্টের ভুমিকায়। DM, SP, Income Tax, Sale Tax, থানা পুলিশের সামনে ২০০ মিটারের মধ্যে যখন, রোজ এই কোটি কোটি টাকার নগদ কারবার আজও রমরমিয়ে চলে, তখন বুঝতে হয় সরকার আসলে কয়েকজন মানুষ, বাকি সবটাই তাদের মর্জি মাত্র, আমরা বোকারা ভাবি গণতন্ত্র।

রাইসমিলগুলো তখনও অধিকাংশই বর্ধমান মেদিনীপুর বা রায়গঞ্জ শহর কেন্দ্রিক বা মফঃস্বলের ছোট পুরসভার ভিতরে বা তার আশেপাশে। সুতরাং এই রাইসমিলার এসোসিয়েসনগুলোর মাথাগুলোও শহুরে কোন মিলারই হতেন স্বাভাবিক নিয়মেই। যিনি মন্ত্রী না হয়েও চুড়ান্ত ক্ষমতার অধিকারী হতেন। এক বিপুল পরিমানে চাঁদা, দ্বিতীয় মিটিং মিছিলে লোকের যোগান। ভাবুন ৪০০ রাইসমিল হলে ১০০০০ টাকা করে চাঁদা আর ২০০ করে লেবার শ্রমিক হলে সংখ্যাটা চোখ ধাঁধিয়ে দেয়। অতএব নেতারাও আইনে কারচুপির মাধ্যমে রিটান কৃতজ্ঞতা জানাতে কসুর করতেন না।  এভাবেই চলছিল লেনদেন।

যিনি ভাগ্যগুণে একবার এই এ্যাসোসিয়েশনের পদাধিকারি হয়েছেন, তার স্টেটাস যে কোন লেভেলে পৌঁছেছে, সে শুধু মিলারেরাই জানেন। এ্যাসোসিয়েশনের বাৎসরিক চাঁদা নুন্যতম ২০০০০ টাকা বছরে, অন্যান্য আয় বা অনুদান বাদ দিন। শুধু বর্ধমানেই নথিভুক্ত রাইসমিলের সংখ্যা ৫৮০+। যদিও চালু ছোট বড় মিলিয়ে আড়াইশোর কাছাকাছি। বছরে ৫০০ টি মিল নিয়মিত সদস্যপদ রিনিউ করে। তাহলে টাকার সংখ্যাটা কত দাঁড়াচ্ছে? আমি দায়িত্ব নিয়ে বলতে পারি, আপনি কোথাও এমন কোন বদনাম বা অপপ্রচার শোনেননি, যে রাইসমিল এ্যাসোসিয়েশন কোন সমাজ সেবার সাথে যুক্ত। তাহলে এই বিপুল অর্থ কি হয়? জানার চেষ্টা করলেই মামলার খাঁড়া ঝুলবে, স্থানীয় নেতাদের উৎপাত শুরু হবে, নানা অশান্তি । তাই জানতে চেয়ে কে যেচে ঝামেলা নেবে?

এর পর রাজ্যে ২০০৯ থেকেই রাজনৈতিক পালাবদল ঘটতে থাকে। তার প্রভাব এই চাল শিল্পে প্রচুর। কেন্দ্রীয় সরকার চালের উপর থেকে সেলট্যাক্স তুলে নেয়। এমনকি রাইস ব্রানের উপর থেকেও যাবতীয় কর উঠিয়ে নেয়, আর সেই ৬৮% চালের নিয়মটা সারা দেশ ব্যাপি চালু করে দেয়। এছাড়া অনেক ছোট খাটো সংস্কার হয়। কিন্তু শাসক দল ঘর বাঁচানোর তাগিদে সেসব দিকে নজর দেওয়ার ফুরসতই পায়নি।

নতুন সরকার ক্ষমতায় আসতে না আসতেই, গুয়ের মাছির মত এই এ্যাসোসিয়েশনের নেতারা রঙ পাল্টাতে সবুর করেননি। তাই হাকিম বদলালেও হুকুম বদলায়নি।

শেষ পাঁচ ছয় বছর বাজার অর্থনীতির পাশাপাশি যোগাযোগ প্রযুক্তির সুবর্ণযুগ। শহরের রাইসমিলগুলোর একলপ্তে বিপুল জমি আবাসন শিল্পের জমি হিসাবে বিকিয়ে গেল। সেই টাকাতে তারা গ্রাম সাইডে রাইসমিল খুলে বসল। কাঁচামাল আরো সহজলভ্য এখানে। তবে এখন চাষী শুধু ধান বিক্রির টাকার উপরে সংসার নির্ভরশীল নয়। প্রয়োজনে সুদুর উড়িষ্যাতে ধান বেচছে আবার মিলারেরাও বিহার ছত্রিসগড় থেকে ধান আমদানি করছে। ২০০৮ সালের আশপাশ থেকে চাষীরা মিলারদের কাছে টাকা রাখার চেয়ে ব্যাঙ্কে টাকা রাখতে বেশি পছন্দ করার দরুণ আর বাজাতে চিটফান্ডের রমমমাতে মিলারদের হাতে নগদ টাকার যোগান কমতে শুরু হয়। আগের মত ধান আর স্টক করা যাচ্ছিলনা। কিন্তু খরচা তো সেই আগের মতই ছিল সব। আবাসন শিল্পে রাইসমিলের অনেক টাকা বেনামে খাটত, সেগুলোতে টাকার যোগান বন্ধ করলে আমছালা সব যাওয়ার সম্ভাবনা। তাই রাইসমিলগুলোতে টাকার অভাব শুরু হল।  

এবার গনহারে ব্যাঙ্কের মূল ঋণখাতা NPA হওয়া শুরু হল। যেটা এই এ্যাসোসিয়েশনেরই হিসাব অনুযায়ী, ৬০% রাইসমিলই ২০১৪ সালে এই NPA ক্লাবের সদস্য হয়েছে। ঋণখেলাপিটা যারজন্য লজ্জার কারণ হয়নি।

নতুন সরকার ক্ষমতাতে আসার পরেই বিচিত্র সব বুদ্ধির আমদানি করল। আসলে সবটাই তো গায়ক নায়কদের মত এন্টারটেনার বুদ্ধিজীবি দিয়ে তৈরি খসড়া। তাই এগুলো দেখে সকলেই হাসতো বেশি। তবুও কর্তীর ইচ্ছাই হুকুম। ফড়ে বন্ধের নামে কালোবাজারির দিগন্ত খুলে দিলেন। সম্ভবত সর্বোচ্চ স্তরের নির্দেশেই লোকাল নেতারা সরকারি দরে ধান বিক্রির জন্য কুইন্টাল পিছু  স্থায়ী বখরার ননডিস্ক্লোজার এগ্রিমেন্ট চালু করল। যেটা আজও চাষী মহলে ওপেন সিক্রেট।

স্বয়ম্ভর গোষ্ঠী, বিভিন্ন সমবায়, আর চিনি বা লোহা চুরির দায়ে অভিযুক্ত মির্জাগালিব স্ট্রিটের অত্যাবসকীয় খাদ্য নিগমকে(WBECSC) মুখ্য করে নানান সরকারি আধা সরকারি সংস্থাকে দিয়ে ধান কেনাতে লাগল সরকার। টাকা অবশ্য মিলারকেই লাগাতে হইয়েছিল, কারন আগের সরকার রাজ্যকে দেনায় ডুবিয়ে গেছে (তেনার কথাতে) অতএব টাকা নেই। যাদের ধান কেনার দায়িত্ব, সেই সংস্থাগুলোর না আছে ঢাল না তলোয়ার, তাই হওয়া থেকে মড়া সবটাই মিলাররা করত, আজও করে। বামদলগুলির তবুও একটা কৃষক শাখা ছিল, বর্তমান দলের সেই বালাই নেই অবশ্য। এখানে সবটাই তেনার ইচ্ছাতে হয়। তাই এই ‘তানাসাহি’ তে, চাল মজুদের নিজশ্ব পরিকাঠামো না তৈরি করেই ধান মিলিং করে ফেলার ফলস্রুতিতে এই ‘সরকারি চাল” মিলারের ঘরেই রয়ে গেছিল মাসের পর মাস।

কিছু মিলার সেই বিপুল চাল টাকাতে রুপান্তরিত করে ফেলতে বাধ্যহল ব্যাবসায়িক প্রয়োজনে। অনেকের চাল মিলের গোডাউনেই ছত্রাক ধরে গন্ধ হয়ে গেল। এমতাবস্থায় একটা বিশাল অঙ্কের চাল মিলারদের কাছ থেকে অনাদায়ি রয়ে যায়। এর পর মামলা, গ্রেফতার, জরিমানা মিলগেটে তালা ঝোলানো নানান পন্থা ঘটতে থাকে। শুধুমাত্র আইনের ফাদে আটকাপরে নিজের ধনেই নিজেরা চোর বেনে যায় মিলারেরা।

এর এফেক্টটা পরের সিজেনেই মোক্ষম টের প্রলো সরকার। পকেটের পয়সা লাগিয়ে চাষীর ধান কেনার জন্য মিলার নেই। দিকে দিকে চাষী বিদ্রোহে রাজ্য পয়সার বরাদ্দ করল ECSC কে। কিন্তু সেই পরিকাঠামো নেই, এবারেও সব চাল নিতে পারলনা সরকার, অতএব আবার কিছু মিলার জেল জরিমানা খাটল। লেভিটা কেমন যেন বিনা আইনেই অবলুপ্তির পথে হাটতে লাগল। গত শস্য বছরেও প্রায় ৭০০ কোটি টাকা ECSC আদায় করতে পারেনি। কারন যাদের ধান দিয়েছিল তারা অধিকাংশেই কাগজে কলমে রাইসমিল। বাকিটা রাজনীতির পাঁক আর ফ্যাক্টরিতে আগাছা। সুতরাং টাকা নিয়ে চম্পট। ফলস্বরুপ গোটা ৫০ মিলারের নামে এরেষ্ট অর্ডার জারি হয়েছে।

এখন প্রশ্ন এতোদিন এইসব প্রশ্ন উঠেনি কেন?

এই সরকারি আর চাষীর অত্যাচার(!) বা চাপ কেবলমাত্র গ্রাম সাইডের মিলগুলোর উপরে। চাষীদের এক্সট্রা চাপ দিলেও তারা দিন নষ্ট করে শহরে যেতে নারাজ। যত দোষ নন্দঘোষ গ্রামের মিলারগুলো। তাই ওই শহুরে মিলারদের তেমন অসুবিধা হয়নি গত পাঁচ ছয় বছরে। এরা আবার এ্যাসোসিয়েশনে নেতাও বটে।  বর্তমানে গ্রামের মিলগুলোর অধিকাংশই বর্তমানে কোমায়। যারা বেঁচে আছে তারাও মরে যাবার ভান করে আছে বেঁচে থাকার তাগিদে।

সরকারি এজেন্সির ধান নিলে সরকার ধানের কুইন্টাল পিছু ৬৮ কেজি হারে ফিরত নেবে, যে আইনটা কেন্দ্রীয় সরকার গত সিজেনে তুলে নিলেও রাজ্যে বহাল আছে।
ধান উঠার মরসুমে ধানের বাজার দর কম থাকে, কিন্তু সরকারের দর ফিক্সড, যেটা বাজার থেকে দুই তিনশো টাকা বেশি। তাই মিলাররা ব্যাবসায়িক কারনেই সরকারি ধান কিনতে অনীহা দেখায়। বিগত দশ বছরে ধান চালের দাম চার থেকে পাঁচ গুন বেড়েছে। লেবারের মজুরী, চাল মজুদের জন্য নতুন চটের বস্তা,  ডিজেলের ও বিদ্যুতের খরচা লাফিয়ে লাফিয়ে বেড়েছে। সেখানে মিলারের ভাঙানি মজুরী দ্বিগুন বৃদ্ধিটুকুও হয়নি। ২০০৩-০৪ সাথে এক বস্তা লালস্বর্ন ধানের দাম ছিল (৬০ কেজি) ২৩০টাকা। সেটা এখন ৯০০ টাকার আশেপাশে (পুরাতন ধান অক্টোবরে ছিল)। প্রতি বছরেই একটু একটু করে এটা বেড়েছে। শস্য বছরের শেষে সেপ্টেম্বরে সরকার যখন চাল ফিরত নেবার তাগাদা দেয়, তখন সেই চালের দাম অনেকটায় বেড়ে বেড়ে যায় সিজেনের শুরুর থেকে। তাই সরকারি ধান ভাঙা মানেই লোকসান অনিবার্য।

তাহলে এখন সরকারি প্রকল্পের কি হবে? APL, BPL, অন্নপূর্না যোজোনা, অন্ত্যোদয় যোজনা, ICDS Project, ইত্যাদি ছাড়ৈও মিডডে মিল আর সিঙ্গুর জঙ্গলমহলের চাল রয়েছে। সেগুলো চালু রাখতে বিপুল চাল প্রয়োজন। বাইরের রাজ্যে সাধারনত আতপ চাল খায়, তাই সেই চাল রাজ্যে এনে চলবেনা, এখানেই চাল বানাতে হবে। এখন মিল চাই ধান ভাঙাবার জন্য। কিন্তু সুস্থ শরীরে বেঁচে আছে শহরের মিলগুলোই। সুতরাং সরকারের এবারের নজর তাদের উপর।

সরকারকে ধার দেবার রেওয়াজ আগেও ছিল, আজও আছে আগামিতেও থাকবে। যে কেও তথ্য জানার অধিকার আইনে জেনে নিতে পারেন। টাকার অঙ্কটা হয়ত কম থাকত, কিন্তু টাকার দামও তো আগের থেকে কমেছে। আসলে পার্থক্যটা হল, আগে যাদের টাকা সরকারের কাছে থাকত তারা কেও নেতা ছিলনা, তারা ব্যাবসাদার ছিল। এই ধারটাকে ব্যাবসার অঙ্গ হিসাবেই দেখত। আজ তারা হয় আমলাশোলের অপুষ্ট রিকেট শরীর নইয়ে বাঁচার লড়াই করছে, বা রাইসমিলার হিসাবে মৃত। বর্ধমানেই ৩০০ এর বেশি মিল শুধু বন্ধ, কারন ঘোড়ারোগ। এখন নেতাদের মিল আর তাদের তহবিলে নজর পড়েছে। এ্যাসোসিয়েশনের অর্ধেকের বেশি সদস্যের নিজেরা রাইসমিল চালায় না। অন্যকে লিজে দিয়ে নিশ্চিন্তে ইউনিয়নবাজি করছে। এখন কাকে কাকের মাংসে নজর দিতেই চতুর্দিক কা কা রবে মুখরিত।

আগের সরকারের আমলেও রাইসমিল ছিল, লেভিছিল, চাষীছিল, সহায়ক মুল্যে ধান ক্রয় ছিল। আইনও ছিল দুর্নীতিও। কিন্তু তারা কোর্টে থানা পুলিশের বাইরে একটা মিমাংসা ঠিক করেই নিত। যার জন্য কোন রাইসমিল বন্ধ হয়নি সরকারি অত্যাচারে, সরকারও লোকসানে পড়েনি। বর্তমানে খিস্তিপ্রিয় বেল্লিকের দল ক্ষমতার দম্ভে, শিল্পের জন্য হাহাকার করা এই কৃষিজাত ক্ষুদ্রশিল্পের ভবিষ্যতকেই প্রশ্নের মুখে দাড় করিয়ে দিয়েছে।

এছাড়াও নোট বাতিলের কারণে মূলত কাঁচাতে লেনদেন হওয়া কারখানাগুলোতে সেলাইন ঝুলছে। রাইস মিলগুলো তার অন্যতম। সরকার আগেও রাইসমিলকে দেখেনি, এখনও দেখেনা। সেই অসংগঠিতই রয়ে গেল। চীন বাদ দিন, ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপিন্স বা নূন্যতম পাঞ্জাব সরকারের ৫০% রাইসমিল নীতি এই রাজ্য যদি গ্রহন করত তাহলে গোটা দেশটাই আরো অনেকটা বেশি এগিয়ে যেতে পারত।

© তন্ময় হক

Saturday, 3 December 2016

।। মন্দ-ভালো ।।



                                             (১)

-"বলছি, এই অভিজ্ঞতা কি আপনার জীবনে প্রথম?"
-" তাতে আপনার কি?" রীতিমত ঝাঁঝিয়ে উঠল মাসাজ টেবিলে চিৎ হয়ে শুয়ে থাকা মেয়েটি। " আই হ্যাভ পেড দ্য সেম।"
- " না, মানে, তার জন্য কিছু বিশেষ ব্যবস্থার দরকার। টপিকাল য়্যানাস্থেটিক...."
- " না, যা ই হোক,  আমি সেটাই  পেতে চাই। একটু যন্ত্রণার পরের সুখটুকু মিস করতে চাই না। প্লীজ, ডু ইট।" মেয়েটির গলায় আকুতি।
- " ম্যাডাম, মাসাজ নেওয়ার সময় কেমন করছিলেন। মনে হচ্ছিল ব্যথা পাচ্ছেন। "
- " হুঁ, জয়েন্টগুলোয় খুব ব্যথা আমার। আর অল্প ড্রাউসি ও ফিল করছি। "
-"স্কিন ও তো খুব খসখসে হয়ে গেছে, ম্যাডাম। এত দামী য়্যারোমা অয়েল  তো একটু ও নরম করতে পারল না।
       বাই দ্য ওয়ে, সকালে কি খেয়েছেন?"
- "হেলথ ড্রিংক"
- "সংগে বিস্কুট, না টোস্ট?"
- "দূর অত দামী বিদেশী ড্রিংকের সঙ্গে আর কি কিছু খেতে লাগে না কি?
        ও মিস্টার, হোয়াই আর ইউ গোয়িং সো সিলি? করো কি করবে? এসো। "
     সি গ্রিন তোয়ালে ঢাকা উরুসন্ধিতে গভীর সমুদ্রে ডুবে মরার আমন্ত্রণ।
       সস্নেহে ওর পাশে বসে মাথার রঙ করা চুলগুলোয় বিলি কেটে দিতে থাকি। মেয়েটি ভাবে, চরম ঘটনার আগে এটা ফোর প্লে। আরামে চোখ বোঁজায়। একটা হাত আমার কোলের ওপর রাখে।
        আমার পাশে চিৎ হয়ে শোওয়া প্রায় উন্মুক্ত এক নারীদেহ। কামনায় সম্পূর্ণ শিথিল। আদরের ছলে গায়ে মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে দিতে প্রশ্ন করে জানলাম ওর জীবনের কিছু কথা।
       মধ্যবিত্ত বাড়ির মেয়ে। বছর চব্বিশ বয়স হবে। গ্র‍্যাজুয়েশনের পর  মডেলিংকে পেশা করার ইচ্ছায় সেইমত প্রস্তুত হওয়া।
এখন  কিছু কিছু ফ্যাশান শো এবং মডেলিংয়ের পাশাপাশি একটা বাংলা টিভি সিরিয়ালের ও পরিচিত মুখ।
       হঠাৎ হাতে টাকা ঢুকছে। প্রচুর টাকা। খরচ করার উপায় ভেবে মাথা খারাপ। প্রচুর শপিং, পার্লারে সৌন্দর্যচর্চা, স্পা,বডি মাসাজ। ফিগার ধরে রাখতে চটজলদি ক্র‍্যাশ ডায়েট। নিয়মিত জিম করে,দামী দামী ফুড সাপ্লিমেন্ট খেয়ে স্বাস্থ্যচর্চার সন্তুষ্টি। একহারা, রোগা, ফ্যাকাশে,দুর্বল এক শরীর। ঠিক আমার মায়ের মত।

                         (২)

          আমার মায়ের যদিও কিছু করার ছিল না। আমি তখন খুব ছোট। আমার বাবা আমাদের ছেড়ে চলে গিয়ে নতুন জীবন শুরু করেছিলেন। শ্বশুরবাড়িতে ঠাঁই হয় নি, দাদার সংসারেও না। লোকের বাড়ি ঝি গিরি করে দু দুটো পেট চালাতে পারত না। ফিগার ভালো ছিল। কার যেন যোগাযোগে আর্ট কলেজে  ন্যুড মডেলের কাজটা পেয়েছিল।  ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে ঘুরে ঘুরে  এক্সট্রার রোল  জুটত কখনও। আর কিছু চান্স পেয়েছিল ওই সব য়্যাডাল্ট সিনেমায়। তখন তো হাতে হাতে মোবাইল ফোনে পর্নোগ্রাফিক সাইট ছিল না। থার্ড ক্লাস ছেঁড়া সিটের হলে নুন শোয়ে চলত এ সব সিনেমা। আরও কিছু হয়ত করত। করে আমাকে বড় করেছিল।
         পাড়ায় মা অবিশ্যি লক্ষ্মী বৌটি সেজে থাকত। আটপৌরে শাড়ি পরে ব্যাগ হাতে যখন কাজে বেরোত, প্রতিবেশীরা জানত শহরে আয়ার কাজ করে।
       আমি জানি, মায়ের ওই ঈর্ষণীয় ছিপছিপে ফিগারের মূল রহস্য ছিল ঠিকমতো খেতে না পাওয়া। ওই ফ্যাকাশে চামড়া ভিটামিন, মিনারেলসের অভাবে তৈরি।  তার ওপর সবসময় ভাবত এই পাপের পথে নামার জন্য যদি সন্তান, মানে আমার কোনও অকল্যাণ হয়। তাই সব সময় ব্রত,  উপবাস করে করে শরীরটাকে আরও শেষ করে ফেলেছিল। নানা রোগে ভুগে চল্লিশের আগেই মরে বেঁচেছিল অভাগী।
         মা মারা যাওয়ার সময় আমি মোটে তেরো। স্কুল ছাড়তে হল। ভাগ্যিস প্রতিবেশি রতনকাকুর সেলুনে চুলদাড়ি কাটার কাজটা জুটিয়ে ফেলেছিলাম। না খেয়ে মরতে হয় নি। তারপর রতনকাকিমা পাশেই বিউটি পার্লার করল। ওদের  একতলা বাড়ি প্রোমোটিং হতে ফ্ল্যাটের সংগে পুরো গ্রাউন্ড ফ্লোর ওদের হল। ওখানে বড় করে তৈরি করল মেয়ের নামে  'শ্রী ইউনিসেক্স পার্লার।' এই নামের আড়ালে ' বডি মাসাজ উইথ কমপ্লিট স্যাটিসফ্যাকশান' ও। খবরের কাগজের বিজ্ঞাপন দেখে আস্তে আস্তে ক্লায়েন্টের ভীড় বাড়তে লাগল।
      রতনকাকুর বয়স হয়েছে। চুল- দাড়ি কাটা, উৎসবাদিতে নাপিতগিরি তিনি করেন। একটা শর্ট কোর্সে মাসাজ শিখে এসে ওই কাজটা আমিই করি।
      মেল টু মেল, মেল টু ফিমেল,ফিমেল টু মেল, ফিমেল টু ফিমেল সব রকম মাসাজ সার্ভিস এখানে পাওয়া যায়। তবে ফিমেল ম্যাসিওর শ্রীর চেয়ে পুরুষদের কাছে আমার চাহিদাই বেশি। মহিলাদের কাছে তো বটেই।
          আউটডোর ও করি। বিরাট বড়লোকের ঘরের বৌয়েরাই মূলত ক্লায়েন্ট। ব্যস্ত স্বামীর সান্নিধ্যের দুধের স্বাদ মেল ম্যাসিওর কাম জিগোলোর  ঘোলেই মেটান তাঁরা। মোটা অর্থের বিনিময়ে। এই করেই ঝুপড়ি ছেড়ে রতনকাকুদের য়্যাপার্টমেন্টে একটা ফ্ল্যাট ভাড়া করে থাকি। প্রদীপ কুমার ঘোষ নাম থেকে পদবী উড়িয়ে নিজেকে অবাঙালী বানিয়ে রাখি সিক্স প্যাক ফিগারের দৌলতে। ভালোই আছি দিব্যি।

                      (৩)
           
- " ম্যাডাম, সব সময় সাপ্লিমেন্টের ওপর থাকেন, কৌটোর গায়ে লেখা আছে should be taken with food,  দেখেছেন?"
- " দেখেছি। কিন্তু ওই কিনতেই সব ইনকাম শেষ। মাসের শেষে বাবার কাছে হাত পাততে হয় প্রায়ই। তা ছাড়া পেটভরে খাবার খেলে ওয়েট গেন করে যাবো যে। প্রফেশনে টিকে থাকব কি করে?"
- সব সময় সারা শরীর এভাবে সান্সক্রীনে ঢেকে রাখলে চামড়ায় রোদ পড়ে না। ভিটামিন ডি র অভাবে চামড়া তো তাই এমন  খসখসে হয়ে গেছে। আর খাবারে ক্যালসিয়ামের ঘাটতিতে হাড়গোড় এমন দুর্বল হয়ে গেছে যে এইটুকু প্রেশারে ব্যথা লাগছে। দিনভর পরিশ্রম অথচ গ্লুকোজ ফ্রি ডায়েট, ড্রাউসি তো লাগবেই ম্যাডাম।
              সারাদিনের ক্লান্তির পর রিল্যাক্সিং বডি মাসাজ।  অপুষ্টিজনিত দুর্বলতা তো আছেই। তার ওপর আদরের স্পর্শে ঘুমিয়ে পড়েছিল মেয়েটা। কি নিষ্পাপ তার সেই নিশ্চিন্তে ঘুমিয়ে থাকা।
           সব মেয়েই বোধহয় এমন নিষ্পাপ হয়। খুব সহজে বিশ্বাস করে ফেলে চারপাশের সবাইকে। কাউকে ভালোবাসলে তার জন্য সবকিছু উজাড় করে দিতে  পারে। আর তাদের সেই সরলতার সুযোগ নিয়ে  যে পারে তাদের লুটে নিতে চায়। তাদের প্রতারণা করতে  চায়। তারপর মেয়েগুলোকে নষ্ট মেয়ে বলে।
         আমার মা খারাপ মেয়ে ছিল। কিন্তু সকলের সামনে একটা মানুষ যে তার সারা জীবনের ভরণপোষণের ভার নিয়েছিল, এক সন্তানের দায়িত্ব ঘাড়ে চাপিয়ে দিয়ে সে সব কথা বেমালুম ভুলে গিয়ে সরে পড়েছিল । তারই সন্তানের দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে মা কে বাধ্য হয়ে খারাপ পথে হেঁটে নিজেকে ক্ষয় করতে হয়েছিল তিলে তিলে।
        কিন্তু এই মেয়েটা? মাসাজ টেবিলে শিশুর মত শুয়ে থাকা এই মেয়েটা, যেন সাক্ষাৎ আমার জননী- জন্মভূমি।মাথায় ইন্ডিগো পাওডার পাঞ্চ হেনা পাওডার দিয়ে ডাই করা চুলের ভার যেন ফটোগ্রাফে দেখা কালচে- সবুজ পার্বত্য অরণ্য। অলসভাবে ঘুমিয়ে থাকা স্তনদুটি যেন মধ্যভাগের মালভূমি। ক্রমশঃ গর্তের ভেতর ঢুকে যাওয়া পেট যেন সমভূমি ক্রমশ বালুকাবেলার মত নীচু হয়ে মিশে গেছে তার কটিদেশের সি গ্রীন সমুদ্রমেখলায়। তার শরীর, তার মন, মনন, মেধা, বুদ্ধি, কোনওকিছুই কখনো তার  নিজের আয়ত্তাধীন ছিল না। যুগে যুগে তার অধিকার নিয়েছে যে যেমনভাবে পেরেছে।
       এই শিক্ষিতা, স্বাবলম্বী মেয়েটিকে কত সহজে বুঝিয়ে দেওয়া গেছে যে দামী ফুড সাপ্লিমেন্ট তার কেরিয়ারের একমাত্র প্রয়োজন। সে সেটাই বিশ্বাস করে অনিয়ন্ত্রিত ডায়েটিংয়ে জীবনপাত করে যাচ্ছে। এমন চলতে চলতে একদিন তাকে ছিবড়ে করে ফেলে দিয়ে দেশের বাজার অর্থনীতি অন্য মেয়ের পেছনে পড়বে। দেশে কি বোকা মেয়ের অভাব? মেয়েটার যোগ্যতায় কি এই পেশা ছাড়া অন্য কোনও অপশন ছিল না? না কি চটজলদি কাঁচা টাকার ওপর তার এত লোভ! মেয়েটার কি সত্যিই বডি মাসাজের নামে একজন বাজারের জিগোলোর কাছে কৌমার্য বিসর্জন দিতে খুব ভালো লাগছে, না কি স্ট্যাটাস মেনটেন করার জন্য অসহায়ভাবে মুখ বুজে সব সহ্য করে যাচ্ছে?

                                      (৪)

-" সরি, ঘুমিয়ে পড়েছিলেন, তাই আপনাকে ডিস্টার্ব করি নি ম্যাডাম। কেমন বোধ করছেন এখন?"
- " ড্রাউসিনেস একদম নেই। বেশ ঝরঝরে লাগছে। "
- " বাড়ি গিয়ে সলিড কিছু খেয়ে এক গ্লাস জল খাবেন, দেখবেন পুরো সুস্থ লাগছে।
          বলছিলাম কি, আজকে ওই সার্ভিসটা বরং পোস্টপন্ড থাক। করলে যদিও আমারই লাভ হত। য়্যাডভান্স হিসেবে যা পে করেছেন করেছেন। আর কিছু দিতে হবে না। একা একা ফিরতে পারবেন,  না দিয়ে আসব?"
-"থ্যাংকস।  পারলারের সামনে থেকে একটা ট্যাক্সি ধরে দিলে আমি একাই যেতে পারব।"
        দ্রুত পোশাক পরে বেরিয়ে গেল মেয়েটা।
         পুরো টাকা জমা না পড়ায় কাউন্টারে মৃদু অসন্তোষ সৃষ্টি হল। রতনকাকিমাকে মিথ্যে কথা বানিয়েই বলতে হল হঠাৎ মেয়েলি সমস্যা শুরু হয়ে যাওয়ায় পুরো সার্ভিস দেওয়া গেল না।
          আমি খারাপ ছেলে হতে পারি। কিন্তু তথাকথিত ভদ্রলোকদের মত একটা মেয়েকে নষ্ট করতে আমার রুচিতে বাধল। আমি তো আর ওদের মত প্যান্ডেলের নারীমূর্তির সামনে '' মা মা" বলে কিংবা স্বাধীনতা দিবসের দিন জাতীয় পতাকার তলায় দাঁড়িয়ে " বন্দেমাতরম " বলে আধিখ্যেতা করি না।
___________
© শর্মিষ্ঠা নাহা

Friday, 2 December 2016

।। তোমার জন্য বসে থাকা ।।


 
বসন্ত  প্রায় শেষ …  
আকাশ  একাকী  হলুদ রোদ মেখে
গাছে  গাছে রেখে গ্যাছে  কালশীত ছায়া
জীবন মাটির ভেতর অফুরন্ত গেরুয়া জীবন ঢেলে
দৈনন্দিন  ডি সি এম চাদর বিছায় সাহানায়
আহা....
এই তো রোজকার নামচা ।

বর্ত্তমান নোট বদলের মিছিলে
তলপেটে খাবি খাচ্ছে মাছি 
দুহাতে জাপটে ধরে পূরুষ জীবন ভার
কালঘোর অশক্ত মানুষ জন্ম নেয় রোজ
ভালবাসা বিপাকে ফেলে রোজ রাতে
ঘরে ফেরে এক ঘুমন্ত ফানুস
গলিতে অন্ধকার ঠোঁকাঠুঁকি পোস্টলাম্প
মগজে জাগে নিত্য চেতনা
ফিরে যেতে হয়...ফিরে যেতে হবে
তোমার জন্য বসে থাকা একা ………….

নয়তো ঘুম ভেঙ্গে সকাল সকাল  জাগাবে চেতনা
মানুষ মানুষ এক অমানুষ বেদনা ।
____________________________
© অনুপ দতত
অবসর ঘর- রিজেন্ট এস্টেট/কোলকাতা 
 ৩০-১১-২০১৬/ ভোর ৫-টা

।। যদি আমি হই মাদকাসক্ত ।।



যদি আমি হই মাদকাসক্ত,
সে মাদক যেন হয় স্বপ্ন…
কিবা আসে যায় যদিও-
স্বপ্নের রঙ ধূসর ।

যদি আমি হই মাদকাসক্ত,
সে মাদক যেন হয় গোধূলির রঙ...
কিবা আসে যায় যখন দিনের মৃত্যু-
মিশে যায় লালাভ নীলিমার সাথে ।

যদি আমি হই মাদকাসক্ত,
সে মাদক যেন হয় দূরের দিগন্ত...
কিবা আসে যায় যদিও-
সে সাদরে গ্রহণ করে আকাশের সিজদা ।

যদি আমি হই মাদকাসক্ত,
সে মাদক যেন হয় কর্দমাক্ত শৈশব...
কিবা আসে যায় সর্বদাই-
শৈশব হারিয়ে যায় যান্ত্রিক শূণ্য আর একের গভীরে ।

যদি আমি হই মাদকাসক্ত,
সে মাদক যেন হয় রঙিন জীবন...
কিবা আসে যায় যখন-
জীবন দলিত হয় সমাজের পদতলে ।

________________________________
© ফিরোজ আখতার

।। ক্লান্তি শেষে ।।


তখনও ভোরের   কুয়াশা ভালোভাবে  কাটেনি । একমনে বাইরের দিকে তাকিয়ে রমাদেবী ।  সকাল থেকে এভাবেই সারাদিন জানলা দিয়ে বাইরে দিকে  তাকিয়ে থাকা । কি বা করার আছে । দুএক জনের সাথে একটু গল্পসল্প আর বাকি সময়টা  বাইরের মানুষজনের যাতায়াত দেখে   কোনমতে কাটিয়ে দেওয়া । বৃদ্ধাশ্রমের সকলের এই  একই রুটিন  । এভাবেই সকলেই   নিজেদের ভালো রাখার আপ্রাণ চেষ্টা করেন  কিন্তু কোথায় যেন একটা চিনচিনে ব্যাথা । রমাদেবীর চিরকালই  ভোরে উঠা অভ্যেস । সময়ের নিয়মে  অনেক কিছুই বদলে গেছে  । কিন্তু কিছু মজ্জাগত জিনিস সঙ্গ ছাড়ে না  কখনই ।

            তখন তমাল  অনেক ছোট । কত হবে বছর ছয় কি সাত । এমনই এক শীতের দিনে তাকে একাকী ছেড়ে চলে গেলেন  তমালের  বাবা ।  মর্নিং ওয়াক  করে ফেরার পথে পথ দুর্ঘটনায় সব শেষ । সকালে উঠেই তিনি হাঁক দিতেন 'কই গো  রমা, একটু চা দেখি, বেরোতে যে দেরি হয়ে যাচ্ছে । ' রমাদেবী তাড়াতাড়ি চা নিয়ে হাজির হতেন  । চা খেতে খেতে বিমলবাবু বলতেন ' তোমার হাতের চা না খেলে ভোরটা যেন  ঠিক  ভোরের মতো মনে হয় না । রমাদেবী অতশত হেয়ালি বুঝতেন না  " । তিনি মনে মনে হাসতেন ।  ময়ূরীর মত তিনি যেন সকালের এই শিশির বিন্দুরটিরই খোঁজ করতেন । সকালের  এই মিষ্টি শীতল শিশিরবিন্দু গায়ে  মেখে সারাদিনের কাজে লেগে পড়তেন । সেই থেকেই সকালে উঠা অভ্যেস । পরে চাকরি জীবনে এর কোনো হেরফের হয়নি । বিমলবাবুর মৃত্যুর পর অনেক চেষ্টা চরিত্র করে তিনি চাকরিটি জোগাড় করেছিলেন ।ভগবানের কৃপায় দুইপ্রাণীর সংসারটি কোনোভাবে হারিয়ে যাওয়ার হাত থেকে  বেঁচে গিয়েছিল ।

         তারপর প্রতিদিন  ভোর হতে না হতেই তিনি বিছানা ছেড়ে উঠে পড়তেন । মনে মনে তিনি যেন তাঁর  ডাকটি শুনতে পেতেন    তমালকে স্কুলের জন্য তৈরি করা, খাইয়ে দেওয়া, স্কূলের বাসে চাপিয়ে দিয়ে আসা ।  তারপর  কোনো ভাবে মুখে কিছু দিয়ে অফিসে রওনা দেওয়া ।  ফিরে এসে আবার  ছেলেকে  পড়তে বসানো,  স্কুলের কাজ ঠিকমতো করিয়ে দেওয়া, ছেলের আবদার অভিযোগ শোনা, তারপর  ঘরের  টুকিটাকি কাজ বাগিয়ে ক্লান্ত শরীরটিকে বিছানায় এলিয়ে দেওয়া । হেল্পিং হ্যান্ড বলতে কাজের বকুল মাসি।তবে তমাল  ছিল মা দরদী ছেলে তার । পুরো তার বাবার মতো । মায়ের মন বুঝত সে ।

         দেখতে দেখতে অনেকগুলো বছর পেরিয়ে গেল । রমাদেবী অবসর নিয়েছেন চাকরি থেকে । তমালও   ভালো কোম্পানিতে মোটা মাইনের চাকরির পেয়েছে । কিন্তু চাকরিটি দূরের শহরে । প্রথমে তো যেতেই চায়নি সে । অনেক বুঝিয়ে সুঝিয়ে রমাদেবীই রাজি করিয়ে ছিলেন । মাসের শেষে  ছুটি পেতেই ছুটে চলে আসত মায়ের কাছে  । ছুটির দিনগুলি মাকে সঙ্গে নিয়ে ঘুরে বেড়াত   শহরের একপ্রান্ত থেকে অন্যপ্রান্তে । বকুলমাসি  হেসে হেসে বলত - " এমন ছেলে হাজারে একজন হয় গো দিদি "

রমাদেবীর  মন একরাশ আনন্দে ভরে উঠত I মনে মনে ভাবতেন,  ভগবান তাকে পতীসুখ না দিলেও পুত্রসুখ দিতে কার্পণ্য করেননি । বছর ঘুরতে তা না ঘুরতেই নতুন ফ্ল্যাটে  মাকে নিয়ে গেল তমাল । বেশ ভালই সাজানো গোছানো ফ্ল্যাট । সেদিন  নতুন বাড়িতে তমালকে খাবার খেতে দিতে দিতে  রমাদেবীই নিজের থেকেই  বললেন -
"চাকরি, ঘরবাড়ি সবই তো হল বাবা, এবার একটি টুকটুকে বউ ছাড়া যে ঘর  মানায় না !"
তমাল একটু লজ্জা পেয়ে কাঁচুমাচু করে বলল-
"মা তোমাকে কয়েকদিনে ধরেই বলব  বলব ভাবছিলাম । আমাদের অফিসেই  কাজ করে....সাইনা...তোমার যদি আপত্তি না থাকে..."

"সে তো ভালো কথা । দুর্ বোকা, আপত্তি থাকবে কেন ! আমাকে তুই অনেক বড় দায়িত্ব থেকে রেহাই দিলি বাবা । এই বয়সে তোর বউ খোঁজা আমার পক্ষেও সম্ভব নয় ।"
রমাদেবী খুব ধুমধাম করেই বিয়ে দিলেন তমালের  । আত্মীয় স্বজন, বন্ধু বান্ধব, হইরই করে কেটে গেল বিয়ের কয়েকটা দিন ।

ওদিকে তমালের ও ছুটি শেষ হয়ে গেল । সে নতুন বউ নিয়ে পাড়ি দিল কর্মস্থলে ।
এবার যেন নতুন জায়গায় রমাদেবী খুবই একাকী হয়ে পড়লেন । এখানে পুরনো বাড়িটার  মতো পাড়া পাড়া ভাবটা  নেই । সবাই নিজের নিজের কাজে ব্যস্ত । কাজের মাসিটার পর্যন্ত একটু কথা বলার সময় নেয় ।বকুল মাসির মত একটু সুখ দুঃখ ভাগ  করে নেবে তা হয়ে উঠে না । ওদিকে তমালেরও আসা যাওয়া কমে গেছে । হয়তো সময় হয়ে উঠে না । প্রথমে মাসে মাসেই আসতো । পরে পরে দুমাস, তিন মাস পর্যন্ত পেরিয়ে যেতে থাকল । এখন ছয়মাসে হয়তো একবার । এক চরম একাকীত্ব যেন রমাদেবীকে ঘিরে ধরতে থাকল ।মন আনচান করে, বয়সের ভারে একা একা  বাইরে যাওয়ার সাহসও করেন না। ভরসা বলতে আবাসনের কমবয়সী সিকিউরিটি ছেলেটি । সেই বা কতবার  নিজের ডিউটি ছেড়ে তাঁর   ফাইফরমাস খাটবে ।

পুজোর ছুটিতে তমাল বাড়ি এলে তাকে মনের কথা না বলে থাকতে পারলেন না  রমাদেবী ।
" বাবা, আমার এখানে আর একা একা থাকতে ভালো লাগছে না  । তারপর শরীরেও আর সাথ দিচ্ছে না । "
কিছুক্ষণ চুপ থেকে তমাল বলল "মা, আমিও  সেটাই ভাবছিলাম  । তারপর দিনকাল ও ভালো নয় । যা সব ঘটনা ঘটছে চারদিকে, তোমার একা থাকাটাও নিরাপদ নয় । তাই ভাবছিলাম, শহরে নতুন যে old age home টা খুলেছে, সেখানে গিয়ে থাকাটায় বোধহয় তোমার পক্ষে নিরাপদ । তুমি তো জানই আমি ও তোমার বউমা দুজনেই নিজের নিজের অফিসের কাজে ব্যস্ত....তাছাড়া ওই হোমে  তুমি দুএকজন কথা বলার সংগও  পেয়ে যাবে । "

তমালের কথাটা শুনেই রমাদেবী বুকের উপর দিয়ে যেন কয়েকশ টনের রেলগাড়ি দড়াম দড়াম শব্দ করে পেরিয়ে যেতে থাকল । অনেক  কষ্টে নিজেকে সামলিয়ে নিলেন । তবু যেন গলাটা কেঁপে উঠল -
"বাবা তুই ঠিকই বলেছিস ! "
"না মানে তোমাকে একা ছাড়তে আমারও ভয় করে ।"

অনেকদিন পর আজকের রাত্রে বিমলবাবুকে  দেখতে পেলেন রমাদেবী । হাসতে হাসতে বলছেন "ওগো আজ তোমার ছেলে আসবে , অনেকদিন পরে আসছে তো, ওর প্রিয় লাউ চিংড়ি রেঁধে রেখো যেন !"

ধড়ফড়িয়ে উঠলেন রমাদেবী । না স্বপ্নই ছিল । এখনো ভোরের কুয়াশা কাটেনি । বৃদ্ধাশ্রমের সকলে তখনও ঘুমে আচ্ছন্ন । নাকি সবাই ঘুমিয়ে থাকার ভান করছে । রমাদেবীর আর ঘুম আসে না, জানালা দিয়ে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকেন কুয়াশাচ্ছন্ন বাইরের দিকে, সকালের অপেক্ষায় ।
(সমাপ্ত )
_________
© দূর্জয় সাউ