Showing posts with label অঞ্জলি দে নন্দী(মম). Show all posts
Showing posts with label অঞ্জলি দে নন্দী(মম). Show all posts

Monday, 14 November 2016

।।চৈতন্যবাটী গ্রামেতে ।।


তখন  আমি , থাকতুম , চৈতন্যবাটী গ্রামেতে ; পুরনো বোনেদী বাড়ি ; আমার মা আমায় বলেছিলো যে, বৃহত এক সাপ , তার বাবার বাড়ির উঠনের মহাপ্রভুর বেদীতে রয়েছে , আর সেটিকে সে তার কোলে তুলে নিয়েছে , এরকম স্বপ্নো , সে ঘুমোনোর সময় দেখেছিলো , যখন আমি তার গর্ভে ছিলুম ; অবাক কান্ড ....... আমি তখন বেশ বড়ো ! ...... যেদিন-ই আমার কোনো কিছু , খারাপ হবে ........... সেদিন-ই আগে থেকে-ই মা জানতে পারতো ; কী করে ? .............হাঁ .........সেদিন-ই একজোড়া ঠিক সেরকম-ই সাপ , যেরকম সে তার অতীতের স্বপ্নেতে দেখেছিলো , সেদুটি , আমার মায়ের আসে-পাশে , ঘুরত ........... আর মাটিতে তারা মাথা ঠুকতো-ও .................মা বুঝত যে , সেদিন , আমার কিছু , খারাপ হবে-ই.........আর পরে , তা ঠিক হোতো-ও........ওরা আমাদের বাস্তু ছিলো ..........পরে ............আমার মা তার ভিটেতে , মহাপ্রভুর ভোগ দিতো.........প্রতি পূর্ণীমায় ; আর ঠিক পূজোর সময় , সেই জোড়াসাপ দেখা দিতো , পূজোর স্থানে ...........................হাঁ , এখন আর সে নেই , আর সে পূজো ও হয় না.......কিন্তু আমি , আমার স্বপ্নেতে , এখনো , সে পূজো দেখি .....ঠিক , আগে , যেমন ,  তখন আমি চৈতন্যবাটী গ্রামেতে, দেখতুম ................সামনে খোলা চোখে দাঁড়িয়ে....হাঁ , তখন আমি আমার মায়ের পাশে দাঁড়িয়ে , একমনে , পঞ্চমূখী শঙ্খ বাজাতুম , যতক্ষণ , পূজো চোল্তো....আর , তখন , আমাদের সাথে , গ্রামের বহু মানুষ , সেথায় দাঁড়িয়ে , পূজারীর , উচ্চ স্বরে উচ্চারিতো মন্ত্র শুনতো .......পূজো সম্পূর্ণ হোলে , মা , সকলকে , প্রসাদ বিতরণ কোরতো.................আজ সে নন্দীবাড়ী , স্মৃতী হয়ে গেছে............হাঁ , এখন , আমি আর সেথায় , যাই না.................হাঁ , এখন, আমি , নতুন দিল্লীতে থাকি.....................কেবল , মোনেতে , আজও সেসব , গোপনে ধরে রাখি.........ভোলা যায় ? ...............তা কী ?......স্মৃতী হয় , কখন , মা কী !........................
____________

© অঞ্জলি দে নন্দী(মম)

।। তখনের তরুণীর কার্তিক মাস ।।


আমি তখন তরুনী ; ফ্রক পড়ি ; মাথার একরাশ ঘন কালো ঝাঁকরা , চুলে , বাঁধা থাকতো , রংধনু রং-এর ফিতে ; আমার পায়ে থাকতো ঝুঙুর-ঝুঙুর বাজা রূপোর নূপুর ; দু-হাতে....দু-ডজন কাঁচের রংধনু রং-এর চূড়ী ; গলায়  রংধনু রং-এর  পুতির হার ; কানে রূপোর কানের দুল ; নাকে সোনার নথ ;
             পর পর চার বছর আমি এ ব্রত কোরেছিলুম ; প্রতি কার্তিক মাসে , সন্ধ্যায় , তুলসী তলায় , আপন হাতে গড়া ,একটি মাটীর , বেদীর ওপরে , মোট ৯ টি ………. প্রথমে , তিনটি কূল পাতা , তার ওপরে তিনটি তুলসী পাতা , তার ওপরে.......একটিতে তিনটি পাতা থাকবে , এরকম ,  এক-একটি দুর্বা ঘাস  হবে , সে রকম তিনটি দুর্বা  রাখতুম , তার ওপরে ,  নিজের হাতে গড়া , তিনটি মাটীর প্রদীপ , জ্বেলে , দিতুম  পাশাপাশি ; ওই বেদীর সামনে হাঁটু গেড়ে বসে ; তারপর , রূপোর ঘট থেকে ,   ডান হাতে গঙ্গা জল নিয়েওই  প্রদীপ্গুলিকে প্রদক্ষিণ করতো , আমার হাত , তিনবার ............আর আমার মুখ , সাথে-সাথে মন্ত্রো ও বোল্তো.......
             আর এখন , আমি , প্রৌঢ়ো ; কার্তিক মাসে , বিজলী বাতীর , সুইচ্গুলি অন করে দিই........মন্ত্রো ও ভুলে গেছি........আর পরনে ? ......................প্যান্ট ও শার্ট......বসে-বসে সন্ধ্যার সময় .......... পপ সং শুনি ও ডান্স দেখি......রঙ্গিন পরদায়......সময়ে জীবনের সব-ই বদলায়.........................কী আর করা যায়....................অকারণ শুধু হাসি পায়........................

© অঞ্জলি দে নন্দী(মম)