Monday, 28 November 2016

।। কেউ কী থাকে কাছে পিঠে ।।

চৌপদী চার~~ 

কেউ কী থাকে কাছে পিঠে
কেনই বা এসব ফুল চন্দন
কোথাও আবার পরম শত্রুপক্ষ
কে ডাক দিয়েছে কেই বা আমার স্বজন ৷
দূরে দূরান্তে তারা মালা যদি
তবু ছুটে রোজ হারাচ্ছে তাপ
কেনই বা এসব হয় নিয়মিত
কেন তবে দেখাও জল মাটি প্রতাপ ৷
সমস্ত কিছু একান্ত গোপন
গোপনতার জন্মে সময়
তবু অন্তরে ও ভেতরে ভিজে যাই
কিছুটা প্রানবন্ত আর কিছুটা পুন্যতায় ৷
আমি তো তোমাকে নিত্য ভেবে ধরে থাকি একান্ত বুকে
তোমার অজানা তো কিছু নয় তবু দুরন্ত কেন টানো
আমি তো চেয়েছি এক মৃত্যুহীন প্রান ডাকতে আসেনি কেউ
কেউ কী থাকে কাছে পিঠে আত্মীয় না হোক নিতান্ত বন্ধু যেন ৷

_________
© অনুপ দত্ত

।। ঝরা পাতা ।।



তোমার জন্য এনেছি অনেক গুলো ঝরাপাতা
তোমায় দেবো বলে i লিখবে তুমি কবিতা
তোমার চোখের কাঁজল দিয়ে । আসছে ঈশানী
মেঘ , আসছে কালবৈশাখীর ঝড় একটি একটি
করে কবিতা লেখা ঝরাপাতা উড়িয়ে দিও
মাতাল হাওয়ায় পাখির পালকের মতো i
তোমার মনের মাঝে যে স্বপ্ন যে কল্পনা জানি,
আমাকে নিয়ে নয়, তবু দূর থেকে কাছে পাওয়া
আর কাছে থেকে ভালবাসা, জানি না বুঝতেও
পারিনা কোনটা নেবো, হয়ত তুমি জানই না আমি
কত কিছু কল্পনা করে স্বপ্ন দেখি তোমায় নিয়ে i
অবাক হয়ে তাকিয়ে ছিলে আমার দিকে যখন
ঝরাপাতা গুলো দিয়েছিলাম তোমাকে, অঞ্জলি
পেতে নিয়েছিলে আমার কাছ থেকে i বলেছিলে
কি করবো ? আমি বলেছিলাম কবিতা লেখো ঝরা
পাতায় আর একটি একটি করে উড়িয়ে দাও
ঝড়ের ঠিকানায় i গভীর চোখ তুলে আমার দিকে
তাকিয়ে বলেছিলে ..তুমি নেবে না একটা ?
তোমার জন্য লেখা কবিতার ঝরাপাতা
আমি কিছুতেই উড়িয়ে দেব না কোনো ঝড়ের
ঠিকানায় , ওটা গোঁজা থাকবে আমার চুলের খোঁপায়
শুধু তোমার জন্য i যে দিন বৃষ্টি নামবে অঝোড়
ধারায় নূপুর বাজবে খেজুর পাতায়, আমি বৃষ্টি হয়ে
তোমাকে ভিজিয়ে দেবো আমার ভালবাসায় i সেদিন
তুমি খুলে নিও আমার খোঁপা থেকে তোমাকে লেখা
আমার কবিতা ঝরাপাতায়....... আমি পড়ে অবাক হয়ে
তাকিয়েছিলাম তোমার দিকে ...কিছুই তো লেখা নেই
ঝরাপাতায়... শুধু দুটি শব্দ ....... ভালবাসি তোমাকে ।


____________
©শ্যামল নিয়োগী

।। সময় ।।


আলেয়ার রূপরেখা জেগে থাকে
জেগে থাকে প্রহরী সারারাত তোমার বাড়ির পাশে
অলঙ্কারি ধ্রুবতারা উদয় অস্ত জ্বলে
যে বাড়ি ফেরে নি, তার বাড়ি থেকে দূরে

সময় চেয়ে চলে গেছে কালান্তক
কান ধরে দাঁড়িয়ে একপায়ে
ছেঁড়া হাটে বেচেছি বন্ধকি
সময় তুমি নিতে পারো, নাও
সব নিয়ে দাও শুধু পারের কড়ি

অমৃত সমান সুখ-ভাষণ কথা
পাঁচকান  শুনে শুনে তোমায় বাছি
শুধু চিনি রঙের অদল-বদল
পাকা ধানে মই দিয়ে সাদা হাতি
দুলকি চালে নেয় অভিবাদন

কাল-অতীত থেকে চাইছ সময়
আজও নিতে পারো
যতটা চেয়েছ তার চেয়ে বেশি
আমাদের বন্ধ ঘড়ি, শুধু কড়ি দিও পারের
হাবা হাত পায়ে


____________
© রতন সেনগুপ্ত

Sunday, 27 November 2016

।। হ্যালো .... সুজন ।।

চৌপদী চার ~~
হ্যালো …. সুজন, এই তো সঙ্গবিহীন জীবন
কত শত ব্যথা মাটির পালঙ্কতে
নোটের কাঙ্গাল সঙ্গে পেটের ক্ষিদে
জমে থাকা না-কাটা ধান পাকা হলুদ ক্ষেতে ৷
হ্যালো …. সুজন, একফোঁটা বাতাস খুঁজে মরা
সেখানেও মাস্ক কৃপণ কৃপণ ভার
নিজের ভিটেয় নিজেই পরবাসী
বুক পকেটে ঢাকা উন্মুক্ত হাহাকার ৷
হ্যালো …. সুজন,গরম ভাতের সুবাস শুনশান
ক্ষিদে বেড়াল গুটিশুটি এক কোণে
যখন রেশমী শাড়ী সাবান গন্ধ আসে
তখন রাখবি কী আর পোড়া আমায় মনে ৷
হ্যালো …. সুজন,ঘর ভাঙ্গা বা ভাঙ্গছে যারা
তারাও কি আছে সুখের হরিবোল
হোক না তারা হাল হাবিশের ব্যাটা
তবু পাতিস মায়ের আদর সেঁচা কোল 
_________
© অনুপ দত্ত

।। সুখের আত্মাহুতি ।।

আলোর পরশ যখন আঁধারকে করে গ্রাস,
অপরাধ মানুষের মনে পেতে পারে হ্রাস।
চলার সকল পথ যদি কন্টক বর্জিত হয়,
জীবনের প্রাপ্তিযোগ সর্বদা মসৃনতা পায়।
ধনীর দুলাল যারা সূযোগ তাদেরই জন্য,
সম্বলহীন জন্ম যাদের দারিদ্র তাদের পন্য।
সমাজের সকল সুখ ভোগ করে ধনপতি,
গরীবের ধন কাড়ে সফল যত সমাজপতি।
পথে যারা চলে একা গন্তব্যহীন আঙিনায়,
মহামান্যে পাগল ভাবে তাদের এই দুনিয়ায়।
ভিক্ষাপাত্র হাতে যারা ঘোরে দ্বারে দ্বারে ,
তাড়িত হয় তারা অবহেলা আর অনাদরে।
যত শিশু কাজ করে পায়না সঠিক মজুরী,
সকলে হবে মানবপ্রেমী এটা নয়কো জরুরি।
রাজনীতির নামে চলে দারিদ্র উচ্ছেদ বাণী,
নির্বাক নিস্পন্দ সকল গরীবের জীবধ্বনী।
গ্রীষ্মের দহন তাপে ঘর্মসিক্ত অতিষ্ট জীবন,
বর্ষায় ভেজে মাথা আশ্রয়হীন দিবস যাপন।
শারদীয়ার আঁচ নাই জঠর ভড়ার তাগিদে,
আঁধার কাটে না বস্তির ছাউনীহীন ছাদেতে।
শীতের ছেঁড়া কাঁথা তাও জোটেনা তাদের,
আনন্দ আকাশছোঁয়া বিলাস ব্যসন যাদের।
ফাগুনের মৃদু বাতাসে গরিবের নাই সুখ,
তাদের জনম শুধুই বারোমাস সইতে দুখ।


__________
© নির্মল সাহা

।। মিতালি ।।

কোন এক অচিন পথিক পথে-পথে চলে ,
পথে কোথাও মনের মতো বন্ধু পাবে বলে ।
পাখির কাছে গেল সে মনে নিয়ে আশা
বলল পাখি ব্যস্ত আছি, বাঁধতে নতুন বাসা ।
ফুল বলল, প্রজাপতির রঙে আছি মেতে
বন্ধু পেতে আরও সামনে হবে তোমায় যেতে ।
সাথের বাতাস তোমার সাথে এসো আলাপ করি-
ঝড়ের নামে কুৎসা ছড়াও তোমার সাথে আড়ি ।
নদীর কাছে, নদী ব্যস্ত, ছন্দ কলতানে ,
গাছেরাও সব ব্যস্ত লিখতে পাতার ঝরার গানে ।
ভাবল তবে বন্ধু হবে, ভোরাই আলোর সাথে ,
গল্প কথায় সময় যাবে দুজন দুজনাতে !
রোদ বলল, ব্যস্ত আমি মাটি মাখাতে আলো
তোমার সাথে বলব কথা, সময় কোথা বলো ?
সবুজ ঘাসে মনের আশে, বন্ধু আমার হবে ?
ভোরের শিশির বন্ধু আমার, সেইই সদাই রবে ।
এই যে পুকুর, বন্ধু হতে নেইতো তোমার মানা ?
পুকুর বললে বন্ধু আমার, এই যে কচুরিপানা ।
ভাবলে তবে বন্ধু পাতাই রাতের চাঁদের সনে ,
চাঁদ বলল রাত্রি ফুরায়,ঘুম পাড়াতে আলোর গানে ।
বন্ধু হবে ? ও আকাশ তোমার এত্ত বড়ো মন !
দেখছো নাকো মেঘের খেলা হেথায় সর্বক্ষণ !
ও বৃষ্টি তুমিই তবে বন্ধু হও আমার ?
মেঘের দেশে ব্যস্ত আছি নাইতো সময় নামার ।
ক্লান্ত পথিক ভাবলো বসে, বন্ধু কোথা পাই !
পথে পথে ঘুরলাম কত, বন্ধু কোথাও নাই !?
তেমন সময় নিজ হৃদয় বাড়িয়ে দিলো হাত ,
বলল তোমার বন্ধু হবো দিও আমায় সাথ ।
যখন তখন যেমন খুশি বলবো আমি কথা ,
চাইলে পরে রাখতে পারো হেথায় যত ব্যথা ।
তোমার জীবন ভরিয়ে দেবো আশার স্বপ্ন সুখে
তোমার সাথে থাকবো সদা বন্ধু তোমার বুকে ।



****************
© দোলন দাস মন্ডল

।। অকপটে কথন ।।

সহজে চাইতে পারিনা কিছু
আবার কষ্ট করেও পাইনা -
চাওয়া পাওয়ার একেমন অঙ্ক ?
জানিনা কীকরে বোঝাব
দিনশেষে হিসাব খুলে কেন
আমি নিথর বড় ক্লান্ত ?


__________
© গণেশ পাল
নাটোর ।